ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ শহরে বাড়ি শবনম বেগমের। উন্নত জীবনের আশায় ওমানের রাজধানী মাসকাটে গিয়েছিলেন; গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে। তবে আশাভঙ্গ হতে বেশি সময় লাগেনি।
মাসকাট থেকে শবনম অভিযোগ করেছেন, গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে বেতন দেওয়া হয়নি। উল্টো দিনে ১৫ ঘণ্টা করে খাটতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় এসব নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে হায়দরাবাদের রাজনৈতিক দল মজলিস বাঁচাও তেহরিকের নেতা আমজাদ উল্লাহ খানের কাছে তা পাঠান শবনম। ভিডিওটি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সেই আবেগঘন ভিডিওতে ২৬ বছর বয়সী এই নারী বলেন, গত ২৬ মার্চ ওমানে যান তিনি। স্থানীয় এক জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিনিধি তাকে সেখানে গৃহকর্মীর চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ওমানে যাওয়ার পর কোনো বেতন ছাড়াই তাকে ‘দিনরাত’ খাটানো হচ্ছে।
শবনম বলেন, ‘তারা দেড় মাস ধরে আমাকে কোনো মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতে দেয়নি।’
এই তিন মাসে তাকে ‘শারীরিক নির্যাতন ও মারধর’ করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবার ও থাকার জায়গা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে শবনম তার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নেন।
শবনম অভিযোগ করেছেন, সেই প্রতিনিধি তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছেন। ভিডিওতে তাকে ‘বাঁচানোর’ জন্য আমজাদ উল্লাহর কাছে আকুল আবেদন জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আমজাদ উল্লাহ জানান, শবনমকে মাসে ২০০ ওমানি রিয়াল (প্রায় ৫০ হাজার রুপি) বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মাসকাটে গৃহকর্মীর কাজে পাঠানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘ওমানে পৌঁছানোর পর তাকে প্রতিদিন বিভিন্ন বাড়িতে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে পর্যাপ্ত খাবার ও থাকার জায়গা দেওয়া হয়নি। চার মাস ধরে কোনো বেতনও দেওয়া হয়নি।’
এই রাজনীতিক আরও জানান, শবনমের পরিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, তিনি যেন মাসকাটে ভারতীয় দূতাবাসকে শবনমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং তাকে দ্রুত হায়দরাবাদে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে’ শবনমকে ওমানে পাঠানোর জন্য দায়ী জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ওমানে ভারতীয় দূতাবাস বলেছে, তারা ‘বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং উপযুক্ত স্তরে এর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’।