ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের মাঝে যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের প্রথম সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গতকাল শনিবার প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ বার্তা দেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি।
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রাথমিক সমঝোতার এক মাসের মধ্যে তা লঙ্ঘন করে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে সেতুসহ অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় সমানে আঘাত হানা হচ্ছে।
এর জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান সেখানে তাদের তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগার কেন্দ্রে হামলা করে।
অন্যদিকে বাহরাইনের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
এছাড়া জর্ডানে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এক সেনা।
এর মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহত সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শুরুতেই নিহত হওয়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি বলেন, তার দেশের ওপর চলমান হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের ‘কোনো মূল্য নেই’।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এখন যেহেতু মার্কিন শত্রু যুদ্ধ উসকে দিতে চায় এবং এর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে চায়, তাদের জানা উচিত, প্রিয় ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ অক্ষ তাদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কোনোদিন ভুলতে পারবে না।’