ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর গত দুই মাসে দলবদল ও দলীয় কোন্দলের যে ঢেউ উঠেছে, তারপর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসে বিদ্রোহীদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেছেন, যারা তৃণমূল ছেড়ে গেছেন তারা যদি আবার দলে ফিরে আসেন, তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
কলকাতায় গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা এই দুই মাসে দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও নির্বাচনী কৌশলসহ যাবতীয় নেতিবাচক পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেককে কাঠগড়ায় তোলেন।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা দল ছেড়ে চলে গেছেন এবং আজ আমাকে দোষারোপ করছেন, আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, আপনারা দিদির (তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কাছে ফিরে আসুন। আপনারা যদি তা করেন, তাহলে আমি এক ঘণ্টার মধ্যে আমার দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেব।
‘তবে তারা তা করবেন না। কারণ এরই মধ্যে বিজেপির সঙ্গে তাদের রফা হয়ে গেছে। সমীকরণটা খুব সহজ: দল ছাড়ো, বিদ্রোহী শিবির বা বিজেপিতে যোগ দাও, ইডি, সিবিআই এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করো। তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষারোপ ও গালিগালাজ করা শুরু করো।’
পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের এক মাসের মধ্যে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে একের পর এক বিদ্রোহ দেখা দেয়।
প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন দল থেকে বেরিয়ে যান এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন।
এরপর দলের ২০ জন লোকসভা সদস্য ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) নামের একটি স্বল্পপরিচিত দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে যান এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) জোটকে সমর্থন জানান।
পরবর্তী সময়ে রাজ্যসভার চারজন সংসদ সদস্যও দলত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উপনির্বাচনে মনোনীত করে বিজেপি।
মমতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মদন মিত্রসহ বিদ্রোহীদের বড় একটি অংশ তাদের দলত্যাগের সিদ্ধান্তের জন্য তার ভাইপো অভিষেকের ওপর মূল দায় চাপান।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীরা দলে ফিরলে এক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অভিষেক।