বছরের শুরুতে ব্যাপকভাবে নিন্দিত এক নির্বাচনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ক্ষমতা আরও সুসংহত করতে চাইছেন সাবেক জান্তাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। এর অংশ হিসেবে চীন সফর তাকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সুবিধা দিতে যাচ্ছে।
সোমবার (১৫ জুন) শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর সর্বোচ্চ কূটনৈতিক পর্যায়ের একটি আয়োজন, যেখানে মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে গত মাসের শেষের দিকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ভারত সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে এই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর একটি স্পষ্ট সংকেত যে, চীন মিয়ানমারের নতুন সরকারকে পূর্ণ অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘ভারতও মিন অং হ্লাইংয়ের সাম্প্রতিক সফরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছিল। তবে সেটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরের মতো পূর্ণ মর্যাদার ছিল না।’
এই দৃশ্যমান কূটনৈতিক সাফল্য মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য একটি বড় জয় হলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, বেইজিং সম্ভবত তার নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বিরল খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের উন্নয়ন।
চীন মিয়ানমারের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার ও বিনিয়োগকারী। মিয়ানমারজুড়ে বিস্তৃত তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং গভীর সমুদ্র বন্দরসহ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পের মাধ্যমে বেইজিং সেখানে তার প্রভাব ধরে রেখেছে।
এছাড়া বেইজিং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী ও কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
এমনকি মাঝে মাঝে তারা সীমান্তের কিছু অংশে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মধ্যস্থতাও করে, যেখানে চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য রয়েছে।
থাইল্যান্ডের মিয়ানমারবিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, ‘চীনের আগ্রহ মিয়ানমারের শাসনব্যবস্থার ওপর নয়। বরং তাদের মূল নজর বিরল খনিজ, অবকাঠামো, খনি এবং ভারত মহাসাগরে নিজেদের অর্থনৈতিক করিডোর সুরক্ষিত করার দিকে।’
তিনি বলেন, ‘চীন মনে করছে, মিয়ানমারে পশ্চিমাদের প্রভাব দিন দিন কমছে। এই সুযোগে বেইজিং দেশটিতে নতুন করে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।’