ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমির এক দুর্গম এলাকায় ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির উপস্থিতি যিনি ফাঁস করেছিলেন, সেই স্থানীয় রাখালকে এর প্রমাণ মুছতে ‘হত্যা করা হয়’।
রোববার (১৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল।
ওই ঘাঁটি মূলত ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানে বিশেষ কমান্ডো বাহিনীও মোতায়েন ছিল।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র মারিভ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই ঘাঁটিতে উদ্ধারকারী দল ও কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন করেছিল, যাদের মূল দায়িত্ব ছিল, ইরানের ভেতরে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের পাইলট ও ক্রুদের উদ্ধার করে আনা।
ইরাকের কর্মকর্তারা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ওই একই মরুভূমিতে ইসরায়েলের দ্বিতীয় আরও একটি ঘাঁটি ছিল।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সেটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ও তা ব্যবহার করা হয়েছিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আওয়াদ আল-শামারি নামের ওই রাখাল বাজার-সদাই করতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাবশত এই ঘাঁটির সন্ধান পেয়ে যান।
তিনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে ইরাকি সেনাবাহিনী সেখানে তদন্তের জন্য সেনা পাঠায়। তাদের ওপরও হামলা হয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর গোপন সামরিক তৎপরতার তথ্য ধামাচাপা দিতে এরপর একটি হেলিকপ্টার থেকে শামারির পিকআপ ভ্যান লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শামারির পরিবার দুই দিন খোঁজাখুঁজি করার পর গত ১২ মে তার এই নির্মম পরিণতির কথা জানতে পারে।
শামারির চাচাতো ভাই আমির সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, শামারির গাড়ির মতো দেখতে একটি পোড়া পিকআপ ভ্যান ওখানে পড়ে আছে। কিন্তু ওদিকে যাওয়ার সাহস কারো ছিল না।’
‘১২ মে আমরা যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন গাড়ি আর লাশ, দুটোই পুড়ে ছাই হয়ে থাকতে দেখি,’ বলেন আমির।
রোববারের এই প্রতিবেদন পুরো ইরাকজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরাকের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
ফলে দেশটির সরকারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ইরাকের কর্মকর্তারা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, শামারির আবিষ্কার করা এই ঘাঁটির বিষয়ে ওয়াশিংটন অন্তত ২০২৫ সালের জুন থেকেই জানত। এতে ইঙ্গিত মেলে, ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এই তথ্য ইরাক সরকারের কাছ থেকে গোপন রেখেছিল।
এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইরাক সরকার।