কিউবায় ডিজেল ও জ্বালানি তেল সম্পূর্ণ ফুরিয়ে গেছে। মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম লোডশেডিংয়ের মুখে পড়েছে রাজধানী হাভানা।
কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী ভিসেন্ট ডি লা ও বুধবার (১৩ মে) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন বিন্দুমাত্র জ্বালানি তেল বা ডিজেল অবশিষ্ট নেই। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। আমাদের কোনো জরুরি মজুতও নেই।’
মন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহে রাজধানী হাভানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকটে আগে থেকেই বিপর্যস্ত এই শহরে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভিসেন্ট ডি লা ও জানান, বর্তমানে জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি দেশীয় অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভর করে চলছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই বছরে কিউবা ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা (গ্রিড) দুর্বল ও অকেজো হয়ে পড়ায় সেই সুবিধার বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
কিউবার জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও কিউবা জ্বালানি আমদানির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘যে কেউ আমাদের কাছে জ্বালানি বিক্রি করতে চাইলে কিউবা তার জন্য প্রস্তুত।’
একসময় কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলা। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশের পর তারা আর কোনো জ্বালানি পাঠায়নি।
ওই আদেশে বলা হয়েছিল, কিউবায় জ্বালানি পাঠালে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করবে ওয়াশিংটন।
গত এপ্রিলে রাশিয়ার পতাকাবাহী আনাতোলি কোলোডকিন নামে কেবল একটি বড় তেলের জাহাজ কিউবায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে, যা দ্বীপরাষ্ট্রটিকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল।
প্রায় এক কোটি মানুষের এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রে মার্কিন জ্বালানি অবরোধ এখন চতুর্থ মাসে গড়িয়েছে, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে কিউবার ওপর ট্রাম্পের জ্বালানি অবরোধকে ‘অবৈধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ।
সংস্থাটি জানায়, এটি কিউবার জনগণের উন্নয়নের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি তাদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।