ইসরায়েলের হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাকসাকিয়েহে একটি শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ও ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষতির খবর সম্পর্কে তারা অবগত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ই এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হেজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বলছে, তারা হেজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) দেশটির সাকসাকিয়েহসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলার খবর প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে আইডিএফ জানায়, তারা ওই এলাকায় সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি স্থাপনার ভেতরে অবস্থানরত হেজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলার আগে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল নির্ভুল অস্ত্রের ব্যবহার ও আকাশপথে নজরদারি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাবাতিয়েহ এলাকায় একটি মোটরবাইক লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় একজন সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যেতে সক্ষম হওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়, এতে বাবা নিহত হন। পরে ড্রোনটি তৃতীয়বার সরাসরি মেয়েটিকেও লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। মেয়েটির অস্ত্রোপচার চলছিল বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এদিকে হেজবুল্লাহ ড্রোন ব্যবহার করে উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনী, এতে তাদের তিনজন সেনা আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় হেজবুল্লাহ যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে উল্লেখ করে নি।