‘থালাপতি’ বিজয় এক তাক লাগানো নির্বাচনী সাফল্যের পর এখন ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই সুপারস্টার অভিনেতা এতটা পথ পাড়ি দেবেন বা উল্লেখযোগ্য কিছু জিতবেন, তা কেউ কল্পনাও করেনি। অথচ এখন তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থেকে কেবল দুই আসন দূরে তিনি।
এম জি রামচন্দ্রন, জে জয়ললিতা, সি এন আন্নাদুরাই ও এম করুণানিধির মতো কিংবদন্তিদের পথ অনুসরণ করে রুপালি পর্দা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার বৃত্তটি সম্পূর্ণ করার অপেক্ষায় বিজয়।
তবে শুক্রবার (৮ মে) রাতে বিজয়ের এই জয়যাত্রা হঠাৎই হোঁচট খায়। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) ও আম্মা মাক্কাল মুনেত্র কাজাগাম (এএমএমকে) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা এই মুহূর্তে বিজয়ের দুই বছরের পুরনো দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগামকে (টিভিকে) সমর্থন দিচ্ছে না।
তামিলনাড়ুর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আইইউএমএল ও এএমএমকে তিনটি আসন জিতেছিল। এর মধ্যে দুটির সমর্থন পেলেই বিজয়ের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের কোটা পার করে যেত।
তবে বিজয় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করার কয়েক ঘণ্টা পর এই ‘চুক্তি' ভেস্তে যায়, যা বেশ অস্বস্তিকর।
এনডিটিভি বলছে, রাজ্যপাল বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়ার বদলে সরাসরি ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখতে চেয়ে বিজয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাই এখন সবার নজর গিয়ে পড়েছে ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (ভিসিকে) এবং তাদের দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের ওপর।
বিজয় ভেবেছিলেন, এই আসনগুলো তার পকেটেই আছে। কিন্তু ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) সঙ্গ ত্যাগ করার বিষয়ে এখনো দোটানায় রয়েছেন।
বিজয় শনিবার (৯ মে) ভিসিকে প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং বিকেল ৪টার দিকে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তিনদিন ধরে যা কিছু ঘটল
শুরুতে বিজয় শিবিরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে ভিসিকে এবং বামপন্থী নেতারা গত বুধবার ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করেন।
এনডিটিভির সূত্র অনুযায়ী, স্ট্যালিন তিনটি দলকেই সবুজ সংকেত দিয়ে বলেন, প্রত্যেক দল তাদের নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এরপরই টিভিকে বাম ও ভিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
বিজয়ের দরকার ৬টি আসন। কারণ কংগ্রেস তাদের ৫টি আসন নিয়ে আগেই সমর্থন দিয়েছিল তাকে।
পরদিন বৃহস্পতিবার সারাদিন ছিল চরম উত্তেজনা। বিজয়কে সমর্থনের বিষয়ে বাম ও ভিসিকে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে। সিপিআই এবং সিপিএম শুরুতে কিছুটা দোটানায় ছিল। তারা সম্ভবত 'বাইরে থেকে সমর্থনের' কথা ভাবছিল।
অন্যদিকে ভিসিকে ছিল রহস্যময়। থিরুমাভালাভান শুধু বলেছিলেন, ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব’ এবং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বামপন্থীদের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের অবস্থান নির্ভর করছে।
দিন শেষে চিত্রটি বদলে যায়। বামপন্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘হ্যাঁ, আমরা ভেতর থেকেই টিভিকে-কে সমর্থন দেব।’ কিন্তু ভিসিকে যায় পিছিয়ে। শোনা যাচ্ছে, তারা এখন একটি ক্যাবিনেট পদের পাশাপাশি থিরুমাভালাভানের জন্য উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ চাইছে।
এমনকি আশ্চর্যজনকভাবে গুঞ্জন ওঠে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারেন। বিজয় ও তার দল তখন চরম উদ্বেগের মধ্যে। রাজ্যপালের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বৈঠকটিও সফল হয়নি।
রাজ্যপাল আরলেকার সরাসরি বিজয়কে প্রশ্ন করেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন হলে আপনি ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালাবেন?’
বিজয় দাবি করেন, তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন।
শুক্রবার ভোরে ভিসিকে আবার ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সন্ধ্যায় তারা ঘোষণা করে, ‘আমরা টিভিকে-কে সমর্থন দেব।’
তাদের দুটি আসন এবং বাম ও কংগ্রেসের সমর্থন যোগ করলে বিজয়ের হাতে ১১৯টি আসন হয়ে যায়। এটি যথেষ্ট ছিল।
এমনকি আইইউএমএল-এর সমর্থন আছে ধরে নিয়ে বিজয় ১২১টি আসনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান।
কিন্তু এরপরই আইইউএমএল, এএমএমকে ও সবশেষে ভিসিকেও অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে সরকার গঠনের তৃতীয় চেষ্টাতেও ব্যর্থ হন বিজয়।
তামিলনাড়ুর বিধানসভার মেয়াদ আগামীকাল রোববার শেষ হচ্ছে। ফলে বিজয় ও তার দলের হাতে সময় খুব কম। কালকের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করতে হবে, নয়তো নির্বাচনী সব জয় বিফলে যাবে এবং রাজ্যপাল নতুন নির্বাচনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন।