কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ ব্যক্তির আশীর্বাদ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে তিনি তাকে আলিঙ্গন করেন এবং তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রবীণ ব্যক্তিটি শিলিগুড়ির বাসিন্দা মাখন লাল সরকার, যিনি বিজেপির শুরুর দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মাখন লাল সরকার ভারতীয় জন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
শমীক বলেন, ‘কাশ্মীরের জেলে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। মাখন লাল তার শেষযাত্রার সঙ্গী ছিলেন। আজ তার উপস্থিতি আমাদের ধন্য করেছে।’
ভারতীয় জন সংঘ ভারতের একটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতীয় জন সংঘ দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী আধা-সামরিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) রাজনৈতিক শাখা।
১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ভারতীয় জন সংঘ বাম, মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী কিছু দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে জনতা পার্টি গঠন করে।
১৯৮০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনতা পার্টির পরাজয়ের পর তৎকালীন জন সংঘের সদস্যরা সেই দল ত্যাগ করেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গঠন করেন। বিজেপিকে ভারতীয় জন সংঘের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শনিবার (৯ মে) সকালে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, কংগ্রেস শাসনামলে একবার দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে দিল্লি পুলিশ মাখন লাল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছিল। আদালতে তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
শমীক ভট্টাচার্যের ভাষ্য, ‘মাখন লাল সরকার বিচারককে বলেছিলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি, শুধু গান গেয়েছেন। বিচারক তখন গানটি শুনতে চান। তিনি আদালতেই সেটি গেয়ে শোনান। গান শুনে মুগ্ধ হয়ে বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন, তাকে বাড়ি ফেরার জন্য প্রথম শ্রেণির টিকিট এবং যাতায়াত খরচ বাবদ ১০০ টাকা দিতে।’
এনডিটিভি জানিয়েছে, মাখন লাল সরকার বিজেপির শিলিগুড়ি জেলার প্রথম সভাপতি ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর সফরের অন্যতম সঙ্গী ছিলেন তিনি।
৯৭ বছর বয়সেও মাখন লাল সরকার স্বাধীনোত্তর ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা শুরুর দিকের অন্যতম তৃণমূল পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব হিসেবে টিকে আছেন।
১৯৫২ সালে কাশ্মীরে ভারতীয় তেরঙা পতাকা উত্তোলনের আন্দোলনের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনিও গ্রেপ্তার হন। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর মাখন লাল সরকার পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছিলেন।
১৯৮১ সাল থেকে তিনি টানা সাত বছর জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা সেই সময়ে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল। কারণ তখন বিজেপি নেতাদের সাধারণত একই সাংগঠনিক পদে দুই বছরের বেশি রাখা হতো না।