বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিতে যখন হিমশিম অবস্থা, ঠিক তখন নিজেদের সীমানার ভেতরে ২২৫টি নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার খবর দিয়েছে চীন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত পাঁচ বছর ধরে নতুন আবিষ্কৃত এসব ক্ষেত্রের মধ্যে ১৩টি খনিতে ১০ কোটি টনের বেশি তেল মজুত রয়েছে। এছাড়া ২৬টি গ্যাসক্ষেত্রে মজুতের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ঘনমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলছে, এই বিপুল খনিজ সম্পদের ঠিক কতটা ব্যবহারযোগ্য, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।
তবে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, নতুন আবিষ্কৃত এই মজুতের কারণে চীনের প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন প্রতি বছর বৃদ্ধি পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক দশকের চেয়ে চীনের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত প্রায় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে তারা ৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।
বিশ্বের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ইরান যুদ্ধে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যখন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে চীনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো।
জ্বালানির ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। নিজেদের চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ তেল তারা ইরান থেকে আমদানি করে। ফলে ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব থেকে চীনও পুরোপুরি মুক্ত নয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদী ‘জ্বালানি স্বনির্ভরতা’ অভিযানের কারণে চীন এখন পর্যন্ত অন্যান্য বড় অর্থনীতির চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পদ্ধতিগতভাবে বাহ্যিক সংকটের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চমানের উন্নয়নের মাধ্যমে যেকোনো অনিশ্চয়তাকে জয় করতে হবে।