ইউরোপের বিমানবন্দরগুলো বর্তমানে জেট ফুয়েলের এক ভয়াবহ সংকটের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি পুরো মহাদেশে বিমান চলাচলকে পঙ্গু করে দিতে পারে এবং ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি শিল্প সংস্থা।
ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এসিআই ইউরোপ গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইউরোপীয় কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। এতে বলা হয়, ‘বর্তমানে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে এবং স্থিতিশীলভাবে শুরু না হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেট ফুয়েল সংকট একটি রূঢ় বাস্তবে পরিণত হবে।’
‘এর ফলে অনিবার্যভাবে বিমান যোগাযোগব্যবস্থা সংকুচিত হয়ে পড়বে, যা ইউরোপীয় অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করবে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব, তা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে,’ বলা হয় চিঠিতে।
সংস্থাটি জানায়, সামনে আসছে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম, যা অনেক ইউরোপীয় দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সময়টি তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিঠিতে আগামী ছয় মাস জেট ফুয়েল সরবরাহের ওপর জরুরি নজরদারিসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিএনএন জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধানের দেওয়া সাম্প্রতিক সতর্কবার্তারই প্রতিধ্বনি।
এরই মধ্যে এয়ার নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসসহ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু এয়ারলাইনস জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ার লাইনসও চলতি সপ্তাহে ঘোষণা দেয়, ‘জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত’ তারা ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেবে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েলের গড় দাম এক বছর আগের চেয়ে এখন দ্বিগুণেরও বেশি।