যুদ্ধ এখন তার মাথার ভেতরে গেঁথে গেছে। দরজা সজোরে বন্ধ হওয়া বা চামচ মেঝেতে পড়ার শব্দেও সে আঁতকে উঠছে। যুদ্ধবিরতি এই পরিস্থিতির কোনো বদল ঘটাতে পারছে না।
১৫ বছর বয়সের ইরানি কিশোর আলী (আসল নাম নয়) বিবিসিকে বলে, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আমার কোনো দুশ্চিন্তাই ছিল না। কিন্তু এখন সামান্য শব্দেও আমার মস্তিষ্ক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।’
সে বোঝে, যুদ্ধবিরতি হলেও এই আতঙ্ক তার মনে দীর্ঘকাল ধরে থাকবে।
আলী বলে, ‘কোনো জোরালো শব্দ শুনলে আমার শরীর কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের শব্দ, এর শক ওয়েভ এবং মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানের উড়ে যাওয়ার শব্দ আমাদের মনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।’
বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ১৪ বছরের নিচে; অর্থাৎ দেশটিতে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ শিশু রয়েছে।
ইরানে আলীর মতো অনেক শিশু বর্তমানে যা অনুভব করছে, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘হাইপার অ্যারাওজাল'। এটি মূলত পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) প্রাথমিক লক্ষণ।