ইরান যুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষ (আইটিএ) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলিরা প্রায় ৩০ হাজার সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির দাবি জমা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও সম্পত্তির মালিকদের সহায়তা করার জন্য বর্তমানে দেশজুড়ে ৬৫টি ক্ষতিপূরণ তহবিল দল কাজ করছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তার জন্য ইসরায়েলের বিভিন্ন হোটেলেও একটি সম্পত্তি কর মূল্যায়নকারী দল সক্রিয় রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ২৩৭টি ক্ষয়ক্ষতির দাবি দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কাঠামোগত ক্ষতি ১৮ হাজার ৪০৮টি, যানবাহনের ক্ষতি ৬ হাজার ৬১৭টি, ভবনের ভেতরের আসবাব ও সরঞ্জামের ক্ষতি ২ হাজার ৫৯৪টি এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি ৬১৮টি।
আইটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ (২২ হাজার ৮৭১টি) ক্ষেত্রে এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে অথবা ফাস্ট-ট্র্যাক কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ পরিদর্শনের প্রয়োজন পড়ে না।
আইটিএ জানিয়েছে, কেবল ৩০ হাজার শেকেলের কম মূল্যের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি ব্যবহার করা যাবে। এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৬৪টি দাবি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, অত্যধিক চাপের কারণে নির্দিষ্ট স্থানে বিশেষজ্ঞ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে এজন্য নাগরিকদের সম্ভব হলে ফাস্ট-ট্র্যাক কর্মসূচি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দাবি জমা পড়েছে তেল আবিব-জাফা এলাকা থেকে (৫ হাজার ১২৪টি)। এরপর রয়েছে বের্শেবা (৩ হাজার ৫৭৩টি), আরাদ (২ হাজার ৩৬১টি) এবং পেতাহ তিকভা (১ হাজার ৯৯১টি)।