যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের মধ্যে রাশিয়ায় তেলের রাজস্ব দ্বিগুণ হতে চলেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিলে রাশিয়ার প্রধান তেল কর থেকে আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৯০০ কোটি ডলারে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত রয়টার্সের এই হিসাব ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ রাশিয়ার জন্য আকস্মিক মুনাফার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ।
তেল ব্যবসায়ীদের মতে, ইরান যুদ্ধ সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রবাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এই জলপথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
রাশিয়ার বিশাল তেল ও গ্যাস শিল্পের মূল রাজস্ব মূলত উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী কর সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের শুরু থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর সেখানে শুল্ক বাতিল করা হয়েছে।
প্রাথমিক উৎপাদন তথ্য ও তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের হিসাবে দেখা গেছে, তেল উত্তোলনের ওপর রাশিয়ার খনিজ নিষ্কাশন কর মার্চ মাসে ছিল ৩২৭ বিলিয়ন রুবল। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন রুবলে (৯০০ কোটি ডলার)।
গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এই রাজস্ব প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
২০২৬ সালের পুরো বছরের জন্য রাশিয়া এই খনিজ নিষ্কাশন কর থেকে ৭ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন রুবল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।