ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ও অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি তার মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের চিন্তা করছেন। চলতি সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে অপসারণের পর এই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় হোয়াইট হাউসের ভেতরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান শিবিরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরান যুদ্ধে নাস্তানাবুদ অবস্থায় পড়েছে মার্কিন-ইসরায়েল বাহিনীও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প তাই খড়্গ হস্ত হয়েছেন তার মন্ত্রীসভায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসি গ্যাবার্ড এবং কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিক বর্তমানে ট্রাম্পের নজরদারিতে রয়েছেন। গ্যাবার্ডের ওপর ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ হলো, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে গ্যাবার্ডের পক্ষ থেকে যুদ্ধবাজ রাজনৈতিক এলিটদের সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করা। অন্যদিকে, হাওয়ার্ড লুটনিকের বিরুদ্ধে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের অভিযোগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানো নিয়ে মিত্রদের চাপ রয়েছে।
শ্রম মন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডিরেমারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলায় তাকেও মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে। তার বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ ও ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য সরকারি সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
যদিও জনসমক্ষে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ড্যাভিস ইঙ্গল দাবি করেছেন যে প্রেসিডেন্ট গ্যাবার্ড এবং লুটনিকের ওপর ‘পূর্ণ আস্থা’ রাখছেন, তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে ভিন্ন কথা। কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প বর্তমানে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ এবং তিনি দ্রুত প্রশাসনে পরিবর্তন আনতে চান যাতে জনগণের কাছে এমন বার্তা যায় যে তিনি পরিস্থিতি সামলে নিচ্ছেন।
এরইমধ্যে গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণটি তার অনেক মিত্রের কাছেই ‘যথেষ্ট কার্যকর’ মনে হয়নি। ফলে নিজের ইমেজ পুনরুদ্ধারে এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে তিনি মন্ত্রিসভায় এই ‘শেক-আপ’ বা রদবদলকে একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।