মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসছেন সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার (৩ শুক্রবার) দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন সামরিক এই নেতা।সংসদে মোট ৫৮৪ ভোটের মধ্যে অন্তত ২৯৩ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী এই নেতা।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই মূলত পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন মিন অং হ্লাইং।
গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির নির্বাচনে সেনাবাহিনী-সমর্থিত দল ব্যাপক ব্যবধানে জয় পায়। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে এবং এটিকে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছে।
নির্বাচনে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি সংসদের ৮০ শতাংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য নির্ধারিত অনির্বাচিত আসনও রয়েছে, যা মোট আসনের এক-চতুর্থাংশ।
মিন অং হ্লাইং এমন এক সময়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন যখন দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকা সামরিক বাহিনীর হাতছাড়া হয়ে গেছে। জান্তা বিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধাদের (পিডিএফ) সঙ্গে সেনাবাহিনীর একের পর এক পরাজয়ের মুখে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘোষণা এলো।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে সামরিক নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আনেন মিন অং হ্লাইং। তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়ে উইন উ-কে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
সূত্র: আল-জাজিরা