ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় কারাজ শহরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটটি বড় সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে তেহরান।
ইরানের আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এই ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করে বলেছে, গতকাল ইরানের সবচেয়ে উঁচু বি১ সেতুতে দুবার হামলার পর জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের এই তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু; সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু; সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্তকারী কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং জর্ডানের কিং হুসেইন সেতু, দামিয়া সেতু ও আবদুন সেতু।
গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতু বি১ আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি দেওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ১৩৬ মিটার উঁচু বি১ সেতুটি নির্মাণাধীন ছিল। এটি তেহরানের সঙ্গে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারাজকে সংযুক্ত করার কথা ছিল।
ইরানের আলবোরজ প্রদেশের (যেখানে সেতুটি অবস্থিত) ডেপুটি গভর্নর গদরাতুল্লাহ সেইফ রাষ্ট্রীয় টিভি ও ফারস নিউজ এজেন্সিকে জানান, সেতুতে হামলায় ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর সেতুর বিশাল অংশ ধসে পড়ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তেহরান থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই সেতু থেকে ধোঁয়া ওঠার ফুটেজ পোস্ট করেন।
সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান আলোচনার টেবিলে না বসলে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।