সিএনএনের বিশ্লেষণ
ইরান চায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ হোক, কিন্তু চূড়ান্ত ফয়সালা ছাড়া যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঝুঁকি তারা নিতে পারছে না। ইরানি নেতারা বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ তাদের শর্ত মেনেই শেষ হতে হবে। কেবল একটি সাধারণ ‘অস্ত্রবিরতি’ তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র এ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট পাল্টা আঘাত করতে পেরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সেখানে কোনো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা স্থল অভিযান ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কার্যকর।
তবে যুদ্ধের কোনো স্বীকৃত সমাধান ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক এবং একতরফা প্রস্থান সব পক্ষের জন্যই অনেক অমীমাংসিত ইস্যু রেখে যাবে।
তেহরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি এড়াতে চান। তারা মনে করেন, একটি সাধারণ অস্ত্রবিরতি কেবল যুদ্ধের সাময়িক বিরতি ছাড়া আর কিছুই নয়; যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুনর্গঠিত হওয়ার এবং আবারও আঘাত করার সুযোগ দেবে।
এ কারণে যুদ্ধের অবসানের জন্য ইরানের দেওয়া প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল, ভবিষ্যতে এই সংঘাত আর ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা। ইরানের নেতাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ইরানি প্রক্সিদের ওপরসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের হুট করে চলে যাওয়া এই শর্তগুলোর কোনোটিই পূরণ হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইরান চায় ওয়াশিংটন যেন ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তেহরান সম্ভবত উদ্বিগ্ন যে, গাজা এবং লেবাননে অস্ত্রবিরতির পর ইসরায়েল যেভাবে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, তেমনি ইরানের আকাশসীমার ওপরও তারা অবাধ সামরিক অধিকার বজায় রাখার চেষ্টা করবে।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান মানেই যে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল বা লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়ে যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রস্থানের পর ইরানের প্রধান লক্ষ্য হবে ওয়াশিংটনকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। আর সেটি করার জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বজায় রাখা এবং তেলের দাম যেন কমে না যায়, সেই কৌশল তারা বেছে নিতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শুল্ক ব্যবস্থাকে আরও পাকাপোক্ত করতে পারে; যেখানে ইরান প্রতিটি জাহাজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে এবং যাতায়াতের জন্য লাখ লাখ ডলার আদায় করে থাকে।