উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি কমাতে ইরানি তেলের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট এ কথা বলেন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারি।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানি তেলকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ইরানের প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে, যা হিসাব অনুযায়ী ১০ দিন থেকে দুই সপ্তাহের সরবরাহ।
বেসেন্ট আরও বলেন, এতদিন ইরানের তেলের প্রধান গন্তব্য ছিল চীন। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে এই তেল মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও ভারতসহ অন্যান্য দেশেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তিনি এসব দেশকে ‘ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানের তেলই ব্যবহার করব, আমাদের এই অভিযানের অংশ হিসেবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভাসমান তেলের ওপর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ২৬ কোটি ব্যারেল জ্বালানি সরবরাহ তৈরি হবে বলেও জানান বেসেন্ট। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ তাদের তেল মজুদ ছাড়ার কারণে এই অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আবারও স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে তেল ছাড়তে পারে, যাতে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
তেলের ভবিষ্যৎ বাজারে হস্তক্ষেপের বিষয়ে গুঞ্জন থাকলেও বেসেন্ট তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো আর্থিক বাজারে হস্তক্ষেপ করব না।’
যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেনি বলেও জানান বেসেন্ট। তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খাড়গ দ্বীপে সামরিক স্থাপনায় ‘নির্ভুল হামলা’ চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বেসেন্ট বলেন, ‘আপনি একজন তেল শ্রমিক হলে সেখানে কাজ করতে চাইবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে খাড়গ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।’