বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, ‘সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ট্রাকে পণ্য আনতে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয় বিভিন্ন অলিখিত খাতে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, ড্রাইভার কল্যাণ তহবিল, মানবিক তহবিল, নানা নামে এসব টাকা নেওয়া হয়।’
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ব্যবসা সহজীকরণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
গোলাম মাওলা আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি একটি অদৃশ্য ব্যয়ের মতো। এটি হাতে ধরা যায় না। তবে এর প্রভাব বড়। কিছুদিন আগে শ্যামবাজার পাইকারি বাজার পরিদর্শন করেন সরকারি এক কর্মকর্তা। সেখানে পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের পার্থক্য কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আমরা বলছি, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু এই পার্থক্যের কারণ কী? এর দায় কে নেবে?’
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন এ এইচ এম আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান।
সভায় বাংলাদেশ ক্রোকারিজ মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘রোজার আগে নওগাঁ থেকে পণ্য পরিবহনে ট্রাকের ভাড়া দিতে হতো ১৪ হাজার টাকা। এখন সেই ভাড়া ৩০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি নেই। ফলে রাস্তায় আটকে থেকে পণ্যের সরবরাহ ব্যয় আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয় ভোক্তার কাঁধে পড়ে।’
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সুফল পাওয়া যাবে না। যেখানে পণ্য উৎপাদিত বা আমদানি হয়, সেখানে অভিযান চালাতে হবে।’
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মৌসুমে আমাদের বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়। সে সময় আমদানি করতে হয়। তখন গুটিকয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। সে সময় বাজারে একচেটিয়া সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তখন আমদানি খরচ যদি ৪০ টাকা হয়, তারা সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করে। তখন অভিযান চালিয়ে বলা হয়, ৪০ টাকার পণ্য কেন ১০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ আমদানিকারকের কাছে কেউ জানতে চায় না।’
এ সময় স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই চাঁদাবাজি বন্ধে আমাদের আশাও বেড়েছে। তবে শুধু পুলিশ, ভোক্তা অধিকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সব দায় তাদের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না। সামাজিকভাবে আমাদের রুখে দিতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল জলিল। এ সময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবসায়ী নেতারা।