শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
| ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় খুব বেশি হাতে নেই, তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) স্থাপন করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাটি রাশিয়া প্রথমবারের মতো নিজ দেশের বাইরে বাস্তবায়ন করল। রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেম (আরএএসইউ) বর্তমানে কমিশনিংয়ের অধীনে থাকা ইউনিট ১-এর ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (আইএন্ডসি) সিস্টেমে সফলভাবে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে।
চেরনোবিল শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারমাণবিক ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য, বর্তমানে স্বাধীন রাষ্ট্র ইউক্রেনের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি শহর চেরনোবিল। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল সেই ভয়াবহ রাতে ভয়াবহ এক পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল সেখানকার একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন হয়ে গেছে। অনেকেই কৌতুহলী হয়ে আলোচনা করছেন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরাসরি পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব কি না। এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে—না, তাত্ত্বিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক কঠোর নজরদারির কারণে এটি সম্ভবও নয়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ হবে এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ এর সুফল পাবে।
অবশেষে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ এক দশকের প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম।
বারবার নির্মাণকাজের সময় বাড়িয়েও এখনো উৎপাদনে যেতে পারেনি দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে প্রথম ইউনিটে ‘ফুয়েল লোডিং’-এর জন্য কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ায় প্রকল্পটি এখন উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে বলে জানানো হচ্ছে।