ফুটবলের দেশ আর্জেন্টিনা। যে দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের অগণিত তরুণ। সেই স্বপ্নই এবার সত্যি হলো হাইতিতে জন্ম নেওয়া ১৭ বছর বয়সী স্টিফেন ‘কিকি’ রামোসের। শুধু জাতীয় দলে ডাক পাওয়াই নয়, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে প্রথম হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ফেললেন অনন্য এক নজির।
হাইতির পোর্ট-ও-প্রিন্সে জন্ম হলেও বড় হয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির মধ্যেই। তাই দুই দেশের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও হৃদয়ের টান ছিল একটাই, আলবিসেলেস্তেদের জার্সি। সেই অপেক্ষার অবসান হলো কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের দলে।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রীতি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন দ্যা ওয়ান্ড বয় তকমা পাওয়া কিকি রামোস। ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়, আর তরুণ এই উইঙ্গারের জীবনে যুক্ত হয় এমন এক মুহূর্ত, যা তিনি হয়তো কোনো দিন ভুলবেন না।
ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব একাডেমিতে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে আগেই আলোচনায় এসেছিলেন কিকি রামোস। চলতি মৌসুমে যুব পর্যায়ে ১২ গোল করে নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি। তার গতি, সাহসী ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে ধারালো উপস্থিতি ইতোমধ্যেই তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
সামনে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ। সেই মঞ্চে নিজেকে আরও বড় করে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখছেন কিকি রামোস। তবে তার গল্প শুধু একজন ফুটবলারের নয়। এটি সীমান্ত, জন্মস্থান আর পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে স্বপ্ন জয়ের গল্প। হাইতির সন্তান হয়েও আজ তিনি আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের অন্যতম আশা; আর সেই কারণেই তার অভিষেক কেবল একটি ম্যাচের ঘটনা নয়, বরং আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।