‘ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়’—প্রচলিত এই কথাটি সত্যি করতে হলে এবারও বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে হবে আর্জেন্টিনাকে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে আরও একটি কঠিন বাধা পেরোতে হবে লিওনেল স্কালোনির দলকে। আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আলবিসেলেস্তেদের জার্সির রং।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি পরে খেলবে, নাকি বিকল্প নীল জার্সিতে নামবে? সেটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামীকাল। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও ফিফার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে হওয়া সভায় ম্যাচের অন্যান্য বিষয়গুলোর সঙ্গে দুই দলের জার্সির রঙও চূড়ান্ত হবে।
আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তোন এদুল জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছে আর্জেন্টিনা। তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়া যায়নি।
তবে নীল জার্সি নিয়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র অনুভূতি। অনেকের কাছে এটি ‘কুফা’। কারণ বিশ্বকাপের পাঁচটি ফাইনালের মধ্যে দুইবার নীল জার্সি পরে হেরেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজিত হয়েছিল তারা। অন্যদিকে আকাশী-সাদা জার্সি পরে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে আর্জেন্টিনা এবং তিনবারই শিরোপা জিতেছে। ১৯৭৮ সালে নেদারল্যান্ডস, ১৯৮৬ সালে জার্মানি এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আলবিসেলেস্তেরা।
জার্সির রং কীভাবে নির্ধারণ করে ফিফা?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ড্রয়ে ব্র্যাকেটের ওপরে থাকা দলকে ‘টিম এ’ হিসেবে ধরা হয়। এবারের ক্ষেত্রে সেই দল ইংল্যান্ড। তাই নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের মূল সাদা জার্সি পরার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে তারা। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে নীল জার্সি পরতে হতে পারে। তবে ইংল্যান্ড চাইলে তাদের বিকল্প লাল জার্সিও বেছে নিতে পারে। তখন আর্জেন্টিনা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি পরেই মাঠে নামতে পারবে।
ফিফার মূল লক্ষ্য থাকে দুই দলের জার্সির মধ্যে যেন পরিষ্কার দৃশ্যমান পার্থক্য থাকে। তাই লালের বিপরীতে আকাশী-সাদা কিংবা সাদার বিপরীতে নীল; দুই ক্ষেত্রেই সেই শর্ত পূরণ হয়।
নীল জার্সিতে কি সত্যিই অশুভ আর্জেন্টিনা?
সমর্থকদের কাছে নীল জার্সি নিয়ে ভয় থাকলেও ইতিহাস পুরোপুরি তাদের পক্ষে নয়। নীল জার্সি পরেও বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরেছিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও ইংল্যান্ডকে নীল জার্সি পরে হারিয়েছিল তারা। এবারের বিশ্বকাপেও জর্ডানের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে আকাশী-সাদা জার্সি পরেও হারের নজির রয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা।
তবে জার্সির রঙের চেয়েও বড় স্বস্তির জায়গা হতে পারে অন্য একটি পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, আর প্রতিবারই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। এবার ষষ্ঠবারের মতো শেষ চারের মঞ্চে নামছে স্কালোনির দল।
বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তে এখন সব নজর আটলান্টার দিকে। আর্জেন্টিনা কি নীল জার্সির ‘কুফা’ ভাঙবে, নাকি আকাশী-সাদায় আবারও লিখবে ইতিহাস, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।