পরপর দুই ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার হতাশা যেন এক ইনিংসেই উড়িয়ে দিলেন বিরাট কোহলি। ব্যাট হাতে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে খেললেন ঝলমলে এক সেঞ্চুরির ইনিংস। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করেই জয় তুলে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
বুধবার ১৯৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কোহলি। আগের দুই ম্যাচে প্রথম ও দ্বিতীয় বলেই আউট হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এবার প্রথম বলেই রান নিয়ে ভিন্নধর্মী উদযাপনে মেতে ওঠেন ভারতীয় এই তারকা। সেই মুহূর্তেই যেন বুঝিয়ে দেন, আজকের রাতটা কেবলই তার।
এরপর ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন কোহলি। ২১ রানে পৌঁছেই চলতি আইপিএলে ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এটি তার ১২তম আইপিএল মৌসুম, যেখানে ৪০০ বা তার বেশি রান করলেন।
৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কোহলি। দেবদুত পাডিক্কালের সঙ্গে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৯২ রানের জুটি, যা বেঙ্গালুরুর জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শেষ দিকে টিম ডেভিড আউট হলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখেন কোহলি।
৫৮ বলে শতক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রান করেন কোহলি। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৩টি ছক্কা। পাঁচ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বেঙ্গালুরু।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে আইপিএলের ইতিহাসে নিজের রেকর্ড আরও শক্ত করলেন কোহলি। টুর্নামেন্টে এটি তার নবম সেঞ্চুরি, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জস বাটলারের সেঞ্চুরি সংখ্যা সাতটি।
শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০টি সেঞ্চুরির মালিকও এখন কোহলি। এই তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন আভিষেক শর্মাকে।
বিশ্ব টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির তালিকাতেও আরও ওপরে উঠেছেন তিনি। এখন ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কোহলি। তাদের ওপরে আছেন বাবর আজম, যার সেঞ্চুরি ১৩টি। আর সবার শীর্ষে রয়েছেন ক্রিস গেইল, যার নামের পাশে রয়েছে ২২টি সেঞ্চুরি।
এদিন আরেকটি বড় রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন কোহলি। মাহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মাকে ছাড়িয়ে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে। আর সেই স্মরণীয় ম্যাচকেই আরও বিশেষ করে তুললেন ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরিতে।