২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতির ছক কষছে ক্রিকেট বিশ্ব। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে বসতে যাওয়া এই আসর ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে। ১৪ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দল সরাসরি খেলবে মূল পর্বে,আর বাকিদের পাড়ি দিতে হবে বাছাইপর্বের কঠিন পথ।
বর্তমানে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ নম্বরে। ফলে সরাসরি খেলার নিশ্চয়তা এখনো পায়নি টাইগাররা। তবে দলটির ভেতরে চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু অন্য জায়গায়—কোয়ালিফাই নয়, বরং বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা দেওয়া, এমনকি শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছে তারা।
দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন সেই লক্ষ্য। ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বড় কোনো বাধা না। সিমন্স (হেড কোচ) ইতিমধ্যে পাকিস্তান সিরিজের আগে প্রেসে বলেছেন, তিনি একদমই চিন্তিত না কোয়ালিফাই নিয়ে। আমাদের চিন্তা ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে। কীভাবে আইসিসি ইভেন্টে সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, ট্রফি জিততে পারি। আমরা কোয়ালিফাই নিয়ে চিন্তা করছি না।’
এদিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে বোর্ড পরিচালনা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়া বোর্ডকে সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘নতুন বোর্ডকে সময় দিতে হবে। আমিনুল ভাই ফুটবলের লোক, ক্যাপ্টেন ছিলেন। এখন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। শুধু ক্রিকেটে সমস্যা হচ্ছে এমন না। সব খেলায় সমস্যা হচ্ছে। ক্লাব ক্রিকেট হচ্ছে না। হকিরও ৩-৪ বছর ধরে খেলা হয় না। ফুটবলেও নিয়মিত না। অবশ্যই ক্লাবদের নিয়ে বসা উচিত, কীভাবে এটা চালানো যায়।’
দেশের ক্রীড়া কাঠামো উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সাবেক এই অধিনায়ক। বিশেষ করে ঢাকা লিগ অনিশ্চয়তায় থাকায় অনেক ক্রিকেটারই ম্যাচের বাইরে চলে যাচ্ছেন, যা বড় উদ্বেগের বিষয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও দেখিয়েছেন আশরাফুল। ‘আমিনুল ভাই সব ফেডারেশনের সঙ্গে বসে যেভাবে চালনো যায়, ক্লাবের জন্য অপেক্ষা না করে ফেডারেশন যেন ৬ মাস খেলতে পারে। ক্রিকেট বোর্ড ৮ বিভাগ নিয়ে চার দিনের, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট যদি চালু করে, সব তাদের অধীনে হবে, বয়সভিত্তিকও। এভাবে করলে ক্লাব যদি তখন খেলতে নাও চায়, তখন খেলোয়াড়রা অন্তত মাঠে থাকবে। এ জায়গায় আমিনুল ভাইয়ের বড় কাজ করার আছে ৫ বছরে।’
সবমিলিয়ে, বাংলাদেশের চোখ এখন ২০২৭ বিশ্বকাপে শুধু অংশগ্রহণ নয়, বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই এগোতে চায় দলটি।