ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে এক নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন। টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রায় উপেক্ষিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন দলের সবচেয়ে বড় নায়ক। বেঞ্চে বসে থাকা থেকে শুরু করে ফাইনালে ঝড়ো ইনিংস; সব মিলিয়ে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র একবার সুযোগ পেয়েছিলেন স্যামসন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, টুর্নামেন্টে হয়তো আর মাঠে নামা হবে না তার। তবে হঠাৎই বদলে যায় পরিস্থিতি। রিঙ্কু সিংয়ের বাবার অসুস্থতার কারণে একাদশে জায়গা পান তিনি। আর সেই সুযোগটিই দুই হাতে লুফে নেন ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের বড় জয়ের পথে স্যামসন খেলেন ৪৬ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তার ব্যাটে ছিল ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে তার হাতেই ওঠে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ ট্রফি।
বিশ্বকাপের শুরুতে অবশ্য তার সময়টা মোটেই সহজ ছিল না। ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে ৮ বলে ২২ রান করেন তিনি। এরপর টানা তিন ম্যাচে তাকে একাদশে দেখা যায়নি। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিরে ১৫ বলে ২৪ রান করেন স্যামসন। তবে আসল বিস্ফোরণ ঘটে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে। ভারতের সামনে ছিল ১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য। সেই ম্যাচে ১২টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি এবং দলকে জয়ের পথ দেখান।
এরপর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ছন্দ ধরে রাখেন স্যামসন। ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪২ বলে ৮৯ রান করে ভারতের সংগ্রহ নিয়ে যান ২৫৩ রানে। পরে জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত। ফাইনালেও নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে আরেকটি ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। টানা তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৮০-এর বেশি রান। সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ ম্যাচে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট ও ৮০.২৫ গড়ে ৩২১ রান করেন স্যামসন। টুর্নামেন্টে ২৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে গড়েন এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ডও।
ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হলেন তিনি। এর আগে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪ ও ২০১৬) এবং জাসপ্রিত বুমরাহ (২০২৪)। এছাড়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দুই ম্যাচেই ফিফটি করা বিশ্বের মাত্র তৃতীয় ব্যাটারও এখন স্যামসন। তার আগে এই কীর্তি ছিল শহিদ আফ্রিদি (২০০৯) ও বিরাট কোহলির (২০১৪)।