আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি (আনিসুল)। এর অংশ হিসেবে আগামী মাসে কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি সভা আয়োজনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় জাতীয় পার্টির এই অংশের চেয়ারম্যানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়াম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। সভার সূচনা বক্তব্য দেন মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সারাদেশে শিশুদের হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণও করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরতে পারলে জাতীয় পার্টি আবারও জনসমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হবে। এজন্য দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।’
সভা থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন দলের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, জহিরুল ইসলাম জহির ও মোস্তফা আল মাহমুদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।