ঈদের আগেই ইমাম, খতিব-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে এ সম্মানি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ বিষয়ক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ বিষয়ক সভা এবং আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘মূলত শনিবার প্রথম যে মিটিংটা ছিল, সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করেছেন, আমাদের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যে, বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে, মাসিক সম্মানি এবং উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, ইনশাআল্লাহ, এই ঈদের আগেই এটা পর্যায়ক্রমে শুরুর যে প্রস্তুতি, সেটা সম্পন্ন করে সম্মানিত খতিব, মুয়াজ্জিন ও ইমামদের একটা সম্মানি প্রদান করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি বিএনপির একটি বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য যেন মেধার ভিত্তিতে বৈষম্যহীনভাবে আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এবং বহির্বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা সবাইকে আরও দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো কীভাবে আনবো এবং তার মাধ্যমে আমাদের জনশক্তিকে কীভাবে কর্মক্ষম করে দ্রুততার সঙ্গে তাদের জন্য অনেক বেশি চাকরি ও ব্যবসার সুব্যবস্থা করতে পারবো। তার জন্য যে ডিরেগুলেশনগুলো ও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যে নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে সংস্কারের জন্য সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে কীভাবে আরও প্রাধান্য দেবো আমরা, বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে যারা আছেন বা বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে আমাদের জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও যোগ্য করে বিদেশে পাঠাতে পারবো আমরা, সেগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভিআইপি প্রোটোকল ত্যাগ করে ট্রাফিক সিগনালে আটকে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অফিসে ঢোকার আগে একটি বৃক্ষরোপণ করেছেন এবং এই কার্যালয়ের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যাদের অনেকেই ওনার মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তাদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেছেন, নানা ধরনের আলাপ আলোচনা করেছেন।’
অফিসে যাওয়ার পরে তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যারা মন্ত্রী এবং সচিব রয়েছেন, তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা যার যার অবস্থান থেকে কীভাবে এ পলিসিগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন।’