ভোট কেনাবেচার বিষয়ে প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট কেনাবেচা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য হল, ভোট কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভোট কেনাবেচার বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করেন বিএনপির প্রতিনিধিরা।
এদিন দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে টাকার ব্যাগসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়। তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
এরপর ঢাকার সূত্রাপুরে জামায়াত নেতা মো. হাবিবকে ভোটকেন্দ্রের সামনে টাকা বিতরণের অভিযোগে দুইদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় টাকাসহ আটক দলটির এক কর্মীকে দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নেতাকে টাকাসহ আটকের খবর এসেছে। জেলার চৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের সময় বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে টাকা ছড়াছড়ির অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ করেছে বিএনপি ও জামায়াত।
এ অবস্থায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একট প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন।
পরে এক ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, মেজর কয়েকটা আমাদের খুব অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। যার জন্য আমরা মনে করেছি যে, এটা আমাদের না খালি, সারা দেশের মানুষ অপছন্দ করতেছে। আমরা মনে করেছি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো দরকার, যাতে করে এরকম অপছন্দের কাজ আর না ঘটে। এর মধ্যে একটা হল যে আপনারা দেখেছেন, সৈয়েদপুর এয়ারপোর্টে একজন রাজনীতিবিদের কাছে বড় অংকের টাকা পাওয়া গেছে। এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। ন্যায়-অন্যায়ের বিচার হবে বিচারের মতই। কিন্তু যে সময়ে ঘটনাগুলো ঘটছে, এ সময়ে এটা প্রশ্ন হয়ে যায়।