শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটার পর আহদের অনেককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকেও বাংলামোটর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডিতে থেকে জানানো হয়, ‘শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হইছে।’ এ ছাড়া শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে আরও বলা হয়, ‘পরিস্থিতি কেউ ঘোলাটে করবেন না। আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যমুনার সামনে নতুন করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবারের মধ্যে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর দাবি জানান ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাতেও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে একদল মানুষ অবস্থান নিয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। দুই ভাগে ভাগ হয়ে তারা রাতভর সেখানেই অবস্থান করেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্ত করতে হবে। এর বাইরে তাদের কোনো দাবি নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত চিঠি পাঠানো না হবে, ততক্ষণ তারা যমুনার সামনেই অবস্থান করবেন বলে তিনি ঘোষণা দেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে বলা হয়, যমুনার সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। যার কারণে ইনকিলাব মঞ্চের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ভ্যান র্যালি স্থগিত করা হয়।