আধুনিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। ধারাবাহিক সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে ব্যাংকটিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে কার্যকর ও নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাভারে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। একই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোলা শাখারও উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই বছর আগে সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সে সময় ব্যাংকটি প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশন, দক্ষ মানবসম্পদ নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে কার্যকর ও নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ব্যাংকটির আরও কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, বাহিনীর সদস্যদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সোলার সিস্টেম স্থাপন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ‘সঞ্জীবনী’ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে আর্থিক অংশীদার হিসেবে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনা, বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও উদ্যোগ এবং ব্যাংকের আর্থিক সহায়তাকে সমন্বয় করে একটি ‘ত্রয়ী মডেল’ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
ব্যাংকের সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, কারা ব্যাংকের সেবা গ্রহণের নীতিমালার আওতাভুক্ত, তা বর্তমানে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত ও স্বীকৃত। নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে কোনো ব্যক্তি যাতে অবৈধ বা অননুমোদিত উপায়ে ব্যাংকের সুবিধা নিতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে ব্যাংকের সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ঋণের সফল ব্যবহার ও শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে ব্যাংকটিকে বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে ঋণের চেক দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রয়োজনভিত্তিক অর্থায়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।