দেশের তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত সদস্যভিত্তিক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে যুদ্ধকালীন জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এই বিষয়গুলো তুলে ধরে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এ "শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায় আনসার-ভিডিপির ভূমিকা" শীর্ষক বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
ডিএসসিএসসির আমন্ত্রণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মোট ৩৫৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
উপস্থাপনায় মহাপরিচালক বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার সদস্যদের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও বাহিনীটি দেশের নিরাপত্তা ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনি শান্তিকাল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের মোতায়েন পরিকল্পনা, দায়িত্ব ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল সদস্যভিত্তিক বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বক্তৃতায় বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, বর্তমান সক্ষমতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়েও অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশি-বিদেশি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মহাপরিচালক। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ উপস্থাপনার মাধ্যমে শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কৌশলগত ভূমিকা, সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তায় বাহিনীটির অবদান সম্পর্কে তারা সম্যক ধারণা লাভ করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মহাপরিচালককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।