সাগর-রুনি হত্যা মামলা
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তবে বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তদন্ত সংস্থা। এ ছাড়া ঘটনার পরপর যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বুধবার (৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির সন্তান মেঘ ও মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের রোমানের সঙ্গে মামলার তদন্ত সম্পর্কে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাবা-মা হত্যার বিচার চান সন্তান মেঘ। আর ছেলের উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘১৫ বছর আগের একটি ঘটনা তদন্ত করতে গেলে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ঘটনার ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে বিলম্ব হওয়ায় অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং নতুন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরবো।’
তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনির পরিবারের বিচার প্রার্থনার আকুতির সঙ্গে আমি অবশ্যই সমব্যথী। তবে রাষ্ট্রের কল্যাণে বাংলাদেশের যেকোনো দুর্ঘটনা, যেকোনো অপরাধের বিচার হবে।’
অন্যদিকে, সাগর-রুনি হত্যা মামলা আলো আধারের মধ্যে ঘুরপাক খেলেও আলোর মুখ দেখবে বলে প্রত্যাশা বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনিরের। তিনি বলেন, ‘অতীতে যে তদন্ত হয়েছে সেই তদন্তের সময়কার কিছু জবানবন্দি ফাইল বন্দি করা আছে। এবং আমি দুটো ডিএনএ রিপোর্ট দেখেছি। একটা রিপোর্ট তো আমেরিকার একটি ইনস্টিটিউশন থেকে করা। এজন্য আমার মনে হয়, প্রগ্রেস রিপোর্টটা আপনাদের দেখালে বা পাবলিক ডকুমেন্টে হিসেবে কোর্ট থেকে নিলে সেটা যখন পরিবার দেখতে পাবে তখন আলো আধারের মাঝখানে কিছু আশার আলো দেখতে পাবে।’
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। ১৪ বছর পার হলেও এই হত্যার মোটিভ এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি তদন্তকারী কয়েকটি সংস্থা।