জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশসহ আরও ৫৯টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন মঙ্গলবার (২ জুন) ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়।
শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ কারণেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খবর: রয়টার্সের।
মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) এ প্রস্তাব প্রকাশ করে। এটি ধারা ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা বিষয়ক একটি তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল। যা এমন সময়ে প্রস্তাব দেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন তার জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ওই শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তদন্তাধীন বাকি ৪৫টি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্যের আমদানি মোকাবেলায় আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য। এটি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে আমেরিকান শ্রমিকরা বিশ্বব্যাপী একটি অসম প্রতিযোগিতার ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হয়।’
ইউএসটিআর বলেছে যে তারা একটি টেক্সটাইল ব্যবস্থারও প্রস্তাব করছে, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্ক হারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে, যদিও শুল্ক এবং এর পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক গত ২০ ফেব্রুয়ারি আরোপিত ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার আগেই এই ঘোষণাটি এলো। ওই দিনই সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়।