যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে তার মরদেহ বহনকারী বিমানটি। এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বজনেরা।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে-০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় আসে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়।
এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৫ মে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। একই সঙ্গে সমাবর্তনে উপস্থিত থেকে দুই পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করবেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
প্রায় ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে লিমনের মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিশাম আবুঘরবিয়াকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়েকটি কালো রঙের আবর্জনা ফেলার ব্যাগের মধ্যে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পায় স্থানীয় পুলিশ।
ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, লিমনের শরীরে অসংখ্য জখম ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হিশামের শরীর ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনা তদন্তকারীরা লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে বসার ঘর থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত অনেকগুলো রক্তের দাগ খুঁজে পেয়েছেন। এমনকি শোবার ঘরের মেঝেতেও রক্তের ছোপ পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা রক্তের ফরেনসিক পরীক্ষায় লিমন ও বৃষ্টি উভয়ের ডিএনএ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।