দেশে চলতি বছরে নজিরবিহীন হাম সংক্রমণের মধ্যে আক্রান্তদের বড় একটি অংশই টিকা না নেওয়া—এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির ফলে মে মাসের শেষ নাগাদ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইউনিসেফের কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর শনাক্ত হওয়া হাম আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশই কোনো ধরনের টিকা নেয়নি। এছাড়া ১৪ শতাংশ রোগী একটি ডোজ এবং ১২ শতাংশ দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ম্যানেজার (টিকাদান কর্মসূচি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক আক্রান্তদের বিশ্লেষণ করে দেখেছি, বেশিরভাগই টিকাবঞ্চিত। এমনকি সন্দেহভাজনদের মধ্যেও টিকা না নেওয়ার প্রবণতা কাছাকাছি রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল চারটি সিটি করপোরেশনে এবং তৃতীয় ধাপে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘টিকা নেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। আমরা ইতোমধ্যে প্রথম ধাপের উপজেলাগুলোতে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে দেখছি। সে হিসেবে আশা করছি, মে মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’
এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় হাম-রুবেলা টিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে এ বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তিন ধাপের এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬১ ভাগ, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সময়ের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কভারেজ অর্জিত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।’
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জোরদার করাই হবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল কৌশল। প্রতি বছর আমরা যদি অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারি, তাহলে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, হাম-রুবেলা টিকার পাশাপাশি নিয়মিত কর্মসূচির অন্যান্য নয়টি টিকার সরবরাহও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।