ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বিচার, গুম বিষয়ক, দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পেছনে হাটার ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় দুপুরে ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত কতিপয় অধ্যাদেশ বাতিল ও পরিবর্তন বিষয়ে টিআইবির অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে, সরকারের এ ধারা অগ্রহণযোগ্য ও ধিক্কার জানিয়েছে টিআইবি।
আইনে পরিণত হতে যাওয়া ৯৮ অধ্যাদেশের অনেকগুলোকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে বলেও জানান টিআইবির নির্বাহী।
১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায় প্রতিষ্ঠানটি তবে, যেসব অধ্যাদেশ বাতিল, সংশোধন ও পরে যাচাই করার কথা বলা হয়েছে তার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়, বিচারপতি নিয়োগসহ তিনটি অধ্যাদেশ রহিতের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বাতিলের নামান্তর বলে মনে করেন তিনি। গুম প্রতিরোধ কমিশন নিয়ে সরকারের চিন্তা অগ্রহণযোগ্য ও ধিক্কারজনক বলেও মনে করে টিআইবি।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানায় সংস্থাটি- কারণ হিসেবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ও জুলাই সনদের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এটি বাতিল করতে হবে।
এসব কারণে প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এসেছিলো, সরকার এসব পদক্ষেপের কারণে তা কি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে ? টিআইবি মনে করে এসব সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ও পেছনে ফিরে যাওয়ার শামিল।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো তা এখন উদ্বেগজনক। সরকার সব কিছু তার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় দুষ্ট। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার; যেমন-সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় সরকার। যেখানে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকারও নিজের ইচ্ছেমতো সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।