আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় ও কার্যকরী। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। জুলাই সনদ কার্যকর করতে পারবে বর্তমান পার্লামেন্ট।’
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসুচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই সনদ কিভাবে কার্যকর হবে, সেটা এই সনদের মধ্যেই বলে দেয়া আছে। সুতরাং, জুলাই সনদ হওয়া না হওয়া নিয়ে গণভোট বাতিল হওয়া নির্ভর করে না। এটা আমরা পার্লামেন্টে সুস্পষ্টভাবে বলেছি। বিএনপি জুলাই সনদকে হৃদয়ে ধারণ করে। জুলাই সনদকে চেতনায় ধারণ করে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে যে জুলাই সনদ ২০২৪-এর জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে লিখিত। বিএনপি বিশ্বাস করে, জুলাই সনদ এদেশের আপামর জনসাধারণের একটি মুক্তির সনদ। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বিএনপি অঙ্গিকারবদ্ধ। আর এই জুলাই সনদই বলছে, আমাকে বাস্তবায়ন করো সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে। এটা জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে লিখিত আছে। সুতরাং, যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, এটা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য। তারা বলে, ৭২ এর সংবিধান মানি না। আমরা বলি, ৭২ এর সংবিধান জুলাই সনদের অংশ।’
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন কথা বলি, কোনটা আইনে পরিণত হবে, কোনটা হবে না সেটার ওপর ডিবেট করি। সেটা না করে, আপনারা কি করছেন? রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করছেন। রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিলেন, রাষ্ট্রপতির সংশোধনী মানছেন। জুলাই গণভোট অধ্যাদেশের কথা যে বলছেন, এটাও তো রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ। এইগুলো মানতে পারবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করতে চান। অথচ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় উনারা বয়কট করলেন, বললেন উনারা ভাষণ শুনবেন না।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের ২২ নম্বর ক্লজে লেখা রয়েছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ নারীদের প্রার্থী করবে। বিএনপি প্রায় পাঁচ শতাংশ নারীকে প্রার্থী করেছে, যদিও পুরোপুরি পারেনি। কিন্তু জামাত একজনকেও দেয়নি, এনসিপি জুলাই সনদের আওতায় একজন নারীকেও প্রার্থী করেনি।’
জ্বালানি তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য একই মোটরসাইকেল নিয়ে একই দিন একাধিক জায়গা থেকে তেল নিচ্ছে। সেই তেল নিয়ে বাসায় গিয়ে বোতলে ভরে, ড্রামে ভরে রেখে আবার তারা তেল নিতে আসছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতদিন সফট (নমনীয়) লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে সেকশন ২৫ এর যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে, প্রয়োজনবোধে সেই শাস্তি প্রয়োগ করব এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’