নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো প্রার্থী সময়মতো ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল না করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেবে ইসি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর আগারগাওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আরপিওর ৪৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম-ঠিকানাসংবলিত গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে আগামী ১৫ মার্চ সময়সীমা শেষ হবে।
আইন অনুযায়ী, রিটার্নে প্রতিদিনের পরিশোধিত অর্থের বিল-রসিদ, নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যয়িত হিসাব বিবরণীর অনুলিপি, প্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্যয়ের তথ্য, নির্বাচনী এজেন্টের বিতর্কিত ও অপরিশোধিত দাবির তালিকা এবং অর্থের উৎস উল্লেখপূর্বক প্রাপ্ত অর্থের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তা জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত ও প্রক্রিয়ার ভারসাম্য রক্ষায় নির্বাচনী ব্যয় যাচাই একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। বিজয়ী, পরাজিত কিংবা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত—সব প্রার্থীর জন্যই রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনী ব্যয় না করে থাকেন, তবে নির্ধারিত ফরমে ‘শূন্য’ উল্লেখ করে হলফনামাসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে। যাচাই শেষে হলফনামার মতো তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে কি না—এ প্রশ্নে ইসি আনোয়ারুল বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে এলে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব এএসএম ইকবাল হাসান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জারি করা পরিপত্র–১৮ অনুসারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যয় বিবরণী দাখিল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া ব্যয়ের রিটার্নের তথ্য আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন জমা না দেওয়া বা যথাযথভাবে না দেওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। আইন অনুযায়ী, এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধানও প্রযোজ্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় তদারকি অব্যাহত রাখবে।