ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের জন্য প্রণীত সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল বা তা আইনি জটিলতায় ফেলে বিপ্লবীদের হেনস্তা করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু আন্দোলনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জামায়াত, বিএনপি ও এনসিপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।’
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে নাগরিক প্রতিদিনের কাছে আসা এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে দেওয়া বিস্তৃত প্রতিক্রিয়ায় জুলাই আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পতিত ফ্যাসিবাদের বয়ান ব্যবহার করে জুলাই বিপ্লবকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা ও আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে জনমত গঠনের অপচেষ্টা চলছে।’
কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল বা আইনি জটিলতা তৈরি করা হলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।’
রাজনৈতিক পুনর্বাসন ইস্যুতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জামিন ও দলীয় কার্যালয় খোলার সুযোগ দেওয়া হলেও জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের নামে সুরক্ষা অধ্যাদেশ উপেক্ষা করে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের যে কোনো উদ্যোগ আত্মঘাতী হতে পারে।’
অর্থনৈতিক খাত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাদিক কায়েম। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তনের পর সরকারঘনিষ্ঠ মহলের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘গণভোট ও জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষা করে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি ফিরে এলে তা পরিবর্তনকামী মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির উদাহরণ হিসেবে রাজধানীর রামপুরায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মামলা নিতে প্রথমে গড়িমসি করা হয় ও স্থানীয় বিক্ষোভের পর মামলা নেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হচ্ছে।’
একইভাবে নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গণধর্ষণের পর অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও এক বিএনপি নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ডাকসুর ভিপি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা ও সাম্প্রতিক নৃশংস অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে যে আইন সবার জন্য সমান। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।’