রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায়, স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালের দিকে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিরা খাতুন সোমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে। বিয়ের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই, মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেয়।
মনির ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন সময় সোমার পরিবার থেকে ১১ লাখ টাকা নেয়। এরপরেও মনির আরও টাকার জন্য সোমাকে নির্যাতন করতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করে। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওই দিনই বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে, ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দাখিল করেন মামলার তদন্তকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী।
গত ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।