বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৬
গেল ১৪ জুন পালিত হলো বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘ওয়ান ড্রপ অব ইউম্যানিটি, গিভ ব্লাড, সেভ লাইভস’। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী ও বিনামূল্যের রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
রক্তের কোনো কৃত্রিম বিকল্প নেই। প্রসূতি জটিলতা, দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের চিকিৎসায় নিরাপদ রক্ত অপরিহার্য। অথচ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও বিশ্বের বহু দেশে নিরাপদ রক্তের ঘাটতি এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১২ কোটিরও বেশি ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হলেও এর বণ্টন সমান নয়। উচ্চ আয়ের দেশগুলো, যেখানে বিশ্বের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ বাস করে, সেখানে মোট রক্ত সংগ্রহের প্রায় ৩৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করেছে সেগুলো হলো—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি দেশের রক্তের চাহিদা পূরণে মোট জনসংখ্যার অন্তত ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষের নিয়মিত রক্তদান প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও নিরাপদ রক্তের চাহিদা এখনো ক্রমবর্ধমান। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া ও ক্যানসার রোগীদের নিয়মিত রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের প্রয়োজন হয়। তাই তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করা সময়ের দাবি।
বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে একটি মানবিক ও স্বাস্থ্যসুরক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা। একজন মানুষের এক ব্যাগ রক্ত অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে; আর সেই মানবিক উদ্যোগই হতে পারে মানবতার সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
লেখক
সহযোগী অধ্যাপক, হেমাটোলজি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল