ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। তারা বলছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণ সমাজে নেশার বিস্তার ঘটবে এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮টি তামাকবিরোধী সংগঠন যৌথভাবে এ আহ্বান জানায়। ‘ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ধারা বাতিল: নেশা ও স্বাস্থ্য হুমকিতে তরুণ সমাজ’ শীর্ষক এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ই-সিগারেটে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান মানবদেহে গুরুতর ক্ষতি করে, যা প্রজননস্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ রাখার বিকল্প নেই।’
বিশেষজ্ঞ আলোচনায় অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ‘ই-সিগারেটকে কম ক্ষতিকর হিসেবে উপস্থাপনের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে এ পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশে এটি বৈধতা দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।’
সিএলপিএ-এর হেড অব প্রোগ্রাম আমিনূল ইসলাম বকুল বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বহাল রাখতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। বর্তমানে সীমিত ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও বৈধতা পেলে এটি দ্রুত তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।’
ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনায় তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং নতুন তামাকজাত পণ্য অনুমোদন না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে ই-সিগারেট বৈধতা দেওয়া নীতিগতভাবে অসঙ্গত হতে পারে।’
তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে ই-সিগারেট তামাকজাত পণ্য হিসেবে স্বীকৃত হলেও দেশে সেটিকে সেই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের বিধানও শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
সংগঠনের নেতারা জানান, ইতোমধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাগে ই-সিগারেট পাওয়া যাওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। তারা আশঙ্কা করছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে এটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ ফারহানা জামান লিজা এবং সঞ্চালনা করেন গবেষক ও সাংবাদিক ইব্রাহীম খলিল। সংবাদ সম্মেলন থেকে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারা বহাল রাখা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায়।