কমলা রঙের বিড়াল নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক পুরোনো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ঘরের পোষা প্রাণী, এই রঙের বিড়ালদের নিয়ে আলাদা এক কৌতূহল সবসময়ই ছিল। বিশেষ করে অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, কমলা বিড়ালের আচরণ ও স্বভাবও যেন অন্যদের থেকে একটু আলাদা। এবার বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু আচরণ নয়, জেনেটিক দিক থেকেও কমলা বিড়াল সত্যিই ব্যতিক্রম।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কমলা রঙের বিড়ালের শরীরে এমন এক ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য কোনো পরিচিত স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছিলেন, বিড়ালের কমলা রঙের পেছনে বিশেষ কোনো জেনেটিক কারণ রয়েছে। কিন্তু এখন তারা এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
গবেষকদের মতে, সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শরীরের রঙ নির্ধারণে যে জিন কাজ করে, কমলা বিড়ালের ক্ষেত্রে সেখানে ভিন্ন ধরনের একটি জেনেটিক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এই পরিবর্তনের কারণে বিড়ালের লোমে কালো রঞ্জক কমে গিয়ে কমলা বা আদা-রঙা আভা তৈরি হয়।
আরও মজার বিষয় হলো, এই জিনটির সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্যই কমলা রঙের বিড়ালের মধ্যে পুরুষ বিড়ালের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। কারণ পুরুষ বিড়ালের একটি মাত্র এক্স ক্রোমোজোম থাকে। ফলে সেই ক্রোমোজোমে কমলা রঙের জিন থাকলেই পুরো শরীরে সেই রঙ প্রকাশ পায়। অন্যদিকে স্ত্রী বিড়ালের ক্ষেত্রে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকায় রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। এ কারণেই অনেক স্ত্রী বিড়ালের গায়ে কমলা, কালো ও সাদা মিলিয়ে ক্যালিকো বা টর্টোসেশেল ধরনের নকশা দেখা যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণা শুধু বিড়ালের রঙ নিয়েই নয়; বরং জিন কীভাবে শরীরের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, সেটি বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে জেনেটিক গবেষণায় এটি নতুন দিক খুলে দিতে পারে।
কমলা বিড়াল নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের মজার ধারণাও প্রচলিত আছে। অনেক পোষাপ্রেমী মনে করেন, এরা তুলনামূলক বেশি দুষ্টু, মিশুক এবং মনোযোগপ্রিয় হয়। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, আচরণ পুরোপুরি রঙের ওপর নির্ভর করে না। তবু কমলা বিড়ালদের নিয়ে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ যে অন্যরকম, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
গবেষকরা মনে করছেন, বহু বছর ধরে সাধারণ একটি রঙের আড়ালে লুকিয়ে ছিল জটিল এক জিনগত রহস্য। আর সেই রহস্য উন্মোচন করেই কমলা বিড়াল আবারও বিজ্ঞানীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সূত্র: এমএসএন হেলথ