জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত বিশ্বের দাবি জানিয়েছেন একদল তরুণ জলবায়ু কর্মী। শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জলবায়ু কর্মীরা ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক‘ কর্মসূচির আয়োজন করেন। এসময় তারা কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। উন্নত দেশগুলোর অপরিকল্পতিভাবে ফসিল ফুয়েল ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণের নামে কৃষি জমি ধ্বংস করা হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে। নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। জেলেরা বেকার হয়ে পড়ছে।’
সম্প্রতি কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সান্তা মান্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে আসা তরুণ জলবায়ু কর্মী ফারিহা অমিও যোগ দেন এই জলবায়ু স্ট্রাইকে। অমি বলেন, ‘সম্মেলনে ৫৭ দেশ অংশগ্রহণ করে। দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।’
তরুণ এই জলবায়ু কর্মী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি জ্বীবাশ্ম জালানির এই বেড়া জাল থেকে বের না হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।’
ব্রাইটার্সের পরিচালক সাইদুর রহমান সিয়াম বলেন, ‘পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকল্প নেই। জলবায়ু ন্যায্যতা নিরসণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে পারে একমাত্র পথ।’
জলবায়ু কর্মীদের মতে, একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তেলের ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এসময় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ব্রাইটার্স, ওএবি ফাউন্ডেশন, ইউডো, ক্লাইমেট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ব্রতী, ওয়েলবিইং কেয়ার ফাউন্ডেশন এবং ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।