আজ বিশ্ব মা দিবস। আর বিশেষ এই দিবসেই ‘মা পদক’ পাচ্ছেন চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। আজ সকালে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।
‘আলী-রূপা ফাউন্ডেশন’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জীবনের নানা ক্ষেত্রে সফল সন্তানদের গর্বিত মায়েদের সম্মান জানানো হবে।
শুধু রূপালি পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও ববিতা একজন মমতাময়ী ও দায়িত্বশীল মা। তার একমাত্র ছেলে অনিককে সুশিক্ষা ও আদর্শে বড় করে তুলেছেন।
এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘ অভিনয় জীবনে তিনি বহু রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন, তবে মা হিসেবে এমন স্বীকৃতি তার হৃদয়কে অন্যরকম আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, একজন নারীর জীবনে মাতৃত্বের সম্মানই সবচেয়ে বড় অর্জন।
সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীন-এর উদ্যোগে এবং ‘মাদিহা মার্সিহা অ্যাডভারটাইজিং’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং, আইন ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন অঙ্গনে সফল সন্তানদের মায়েদের সম্মাননা জানানো হবে।
এদিকে সম্মাননার এই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘আনন্দ মেলা’র পক্ষ থেকেও আজীবন সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
ববিতা বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার প্রকৃত নাম ফরিদা আক্তার পপি। এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ১৯৭০-এর দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজস্ব অভিনয়শৈলী, সৌন্দর্য ও আবেগঘন উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক সিনেমায়, যার অনেকগুলোই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন ববিতা। ১৯৯৬ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ প্রযোজকের সম্মাননা অর্জন করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। আর সর্বশেষ দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি।