আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা—এই ছয়টি বিষয় পড়ানো হয়। তবে এবার এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ এবং ‘ক্রীড়া’।
প্রাথমিক শিক্ষাক্রম সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন এই দুটি বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সংগীত, নৃত্য, নাট্যচর্চা এবং বিভিন্ন শারীরিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত করানো হবে, যা তাদের সৃজনশীল বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, নতুন বই দুটির প্রতিটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮০ থেকে ১০০-এর মধ্যে হতে পারে। বই মুদ্রণ ও বিতরণে শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে প্রায় ৪৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য এসব বই ছাপাতে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২২ কোটি টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক এবং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতেই প্রাথমিক স্তরে নতুন দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া নতুন বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং আধুনিক শিক্ষার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম মনে করেন, বর্তমানে থাকা ছয়টি বিষয়ের সঙ্গে আরও দুটি বিষয় যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের ওপর পাঠ্যচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই নতুন বিষয় সংযোজনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শিক্ষাগত সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তাছাড়া মৌলিক যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো ভালোভাবে শেখানোর প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক স্তরেও নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে দুটি নতুন বিষয় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।