ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফলতির জবাব দাবি করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার আলটিমেটাম দেয়। ডাকসুর নেতারা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন।
প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে তারা ‘বাঁশের লাঠি তৈরি কর ছাত্রলীগ ধোলাই কর’; ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন ডাইরেক অ্যাকশন’; ‘লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক অ্যাকশন’; ‘মুজিব মুর্দাবাদ’; ‘ছাত্রলীগ পোস্টারিং করে, প্রশাসন কী করে’; ‘জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এরপর প্রক্টর অফিসে ছাত্র প্রতিনিধিরা প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, শ্যাডো এলাকাসহ বেশ কিছু স্থানে এসব পোস্টার সাঁটানো হয়। পোস্টারগুলোতে মূলত সংগঠনটির কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নজরে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাত ১টার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে এসব স্থাপনায় পোস্টার লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘পোস্টার কখন লাগিয়েছে আমি যদি জানতাম তাহলে তো ওরে ধরে ফেলতাম। আমি সিকিউরিটি অফিসারকে বলেছি প্রত্যেক দারোয়ানের পরিচয় বের করো এবং এস্টেট অফিস যেন এখনই ওদের বরখাস্ত করে। আমরা ওদের ডাকব প্রত্যেককে ওখানে কী হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবার আমরা কঠোর ব্যবস্থায় যাব। আমাদের চারুকলায় ওখানে দারোয়ান থাকে, কার্জন হলে দারোয়ান থাকে, কলাভবনে দারোয়ান থাকে, তারপরও কীভাবে এরা লাগায়? আমি প্রভোস্ট ও এস্টেট অফিসকে বলেছি এদের তালিকা তৈরি করো।’
অন্যদিকে ডাকসু সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনটি (ছাত্রলীগ) গত রাতেই শুধু নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কাজ করেছে। তারা শেখ হাসিনার ছবি, ব্যানার টানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো কাজ করেছে, যা প্রশাসনের অবহেলার কারণেই তারা এসব করার সাহস পাচ্ছে।’
এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যারা ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সাহস পায়? আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য।’
ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে পোস্টার লাগিয়ে যেও না, যদি ধরা পড়ো তবে কুত্তার মতো পিটানো হবে।’ যারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সাথে কোনো আপস করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।