বৃষ্টি আর পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাংস, মাছ ও সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২০০ টাকায়। পাঙাশের কেজি ২২০ ও গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি কিনতে পারছেন না ক্রেতারা।
শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ বিক্রেতা ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ টাকা ও সোনালি মুরগি কেজিতে ৩৮০ টাকা রাখা হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি জাহাঙ্গীর জানান, তেলের দাম বাড়ছে। ভাড়া আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম আর কমবে না।
মুরগির দোকানে ব্রয়লারের দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘কয়দিন আগে ১৮০ টাকা করে কিনছি। এখন বলে ২০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়লে গরিব বাঁচবে কেমনে? শোনেন না, মাইকে শ্রমিকদের কথা কয়। কিন্তু শ্রমিকরা যে কেমনে চলে কেউ কইতে পারবে না।’
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। সব ধরনের মাছ সপ্তাহ ব্যবধানে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। খিলগাও বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। আধা কেজি ওজনের ইলিশের কেজি দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০, টেংরা ৮৫০, গলদা চিংড়ি ছোট ও বড় যথাক্রমে এক হাজার থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো সবজিতে সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।
বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, টমেটো ৬০, করলা ৬০ থেকে ৬৫, পটল ৬০, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৭০, গাজর ৮০, ঢেঁড়স ৬০, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৭০, শসা ১০০-১১০, বরবটি ৮০, কাঁকরোল ১২০, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।