দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ সহজীকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতাধীন ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে (আইএফডিএ) যোগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, এতদিন বাংলাদেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর যৌথ অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনেও (এমসি১৩) বাংলাদেশ এ চুক্তিতে যোগ দেয়নি।
তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইএফডিএতে যোগ দিলে বাজারে প্রবেশাধিকার বা বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র বিরোধ নিষ্পত্তি (আইএসডিএস) বিষয়ে নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। বরং বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা হ্রাস ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার (ডেটাবেজ) উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রীপরিষদ মনে করছে, এ চুক্তিতে যোগদানের ফলে বাংলাদেশকে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া বৈঠকে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আনা পরিবর্তনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পরে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব।
ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে ‘স্পেশাল ড্রাইভ’
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি।
তিনি জানান, চলমান ও পূর্বের সব ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ ধরনের মামলায় একাধিক সংস্থা জড়িত থাকায় তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকার প্রতিটি জেলায় বিদ্যমান বিশেষ আদালতগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছে এবং ঈদের সময়েও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর একটি, যার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।